দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সূর্যগ্রহণ দেখার পর চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা কিংবা দৃষ্টিতে পরিবর্তনের অভিযোগ বাড়ছে যুক্তরাজ্যে। গুগল অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণের পর ‘আমার চোখে ব্যথা করছে’ ধরনের অনুসন্ধান এক দিনে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শতাংশ এবং বিশ্বজুড়ে ৫ হাজার শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূর্যগ্রহণের সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ সুরক্ষা চশমা ছাড়া সূর্যের দিকে তাকালে রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে।
গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে চোখে ব্যথা, মাথাব্যথা ও ঝাপসা দেখার অভিযোগ জানিয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, অল্প সময়ের জন্য সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোর পরই চোখে অস্বস্তি শুরু হয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষায়, সূর্যের তীব্র আলো ও অতিবেগুনি রশ্মির কারণে রেটিনার ক্ষতি হলে তাকে ‘সোলার রেটিনোপ্যাথি’ বলা হয়। এতে চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি, ঝাপসা কিংবা বিকৃত দেখা, রঙ চেনার সমস্যা, দৃষ্টির কেন্দ্রে কালো দাগ এবং হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো উপসর্গ না থাকলেও কয়েক ঘণ্টা পর সমস্যা স্পষ্ট হতে পারে।
মুরফিল্ডস আই হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স আয়োনিডিস জানিয়েছেন, গ্রহণ দেখার পর চোখ লাল হওয়া, জ্বালা, অস্বস্তি, ঝাপসা বা বিকৃত দেখা, নতুন কালো দাগ দেখা কিংবা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সূর্য আংশিকভাবে ঢাকা থাকলেও সরাসরি তাকানো নিরাপদ নয়। অল্প সময়ের জন্য তাকালেও রেটিনার সংবেদনশীল কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে অনুমোদিত সুরক্ষা চশমা ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় আকাশের দিকে তাকানোর কারণে সামান্য চোখের চাপ বা মাথাব্যথা হলে সেটি সবসময় রেটিনার ক্ষতির লক্ষণ নয়; সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা কমে যায়।
১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পরও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। সে সময় মুরফিল্ডস আই হাসপাতালের বিশেষ সহায়তা কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ফোন এসেছিল এবং জরুরি বিভাগে গ্রহণ-সম্পর্কিত চোখের সমস্যা নিয়ে ২২০ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিতে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
কেএম